বেতন স্থবির, কাজের শেষ নেই: শোষণে পিষ্ট বিক্রয়প্রতিনিধিরা

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজারো বিক্রয়প্রতিনিধি প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করলেও তাদের একটি বড় অংশ এখনও ন্যায্য বেতন, কর্মঘণ্টা এবং মৌলিক শ্রম-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাজার সম্প্রসারণ, বিক্রয় বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক সংগ্রহ, পাওনা আদায় এবং কোম্পানির লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের জীবনযাত্রার মানে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে না।
অনেক বিক্রয়প্রতিনিধির অভিযোগ, বছরের পর বছর একই বেতনে কাজ করতে হচ্ছে। বাজারে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়লেও বেতন বৃদ্ধি সেই হারে হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকলেও ওভারটাইম ভাতা বা যথাযথ ভ্রমণ ভাতা (TA/DA) নিয়মিত প্রদান করা হয় না।
এছাড়া অধিকাংশ বিক্রয়প্রতিনিধিকে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে কাজ করতে হয়। দিনের শুরুতে অফিস মিটিং, এরপর সারাদিন বাজার পরিদর্শন, বিক্রয় কার্যক্রম, অর্ডার সংগ্রহ এবং রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের রিপোর্টিংয়ের কারণে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগও অনেকের থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিক্রয়প্রতিনিধিরা একটি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই তাদের ন্যায্য বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, যুক্তিসঙ্গত কর্মঘণ্টা এবং শ্রম আইনের আলোকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, বিক্রয়প্রতিনিধিদের জন্য সুস্পষ্ট চাকরির নীতিমালা, লিখিত নিয়োগপত্র, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, সাপ্তাহিক ছুটি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বিক্রয়প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, তাদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিক্রয়প্রতিনিধিদের অবদান অনস্বীকার্য।
Previous Post Next Post